অবৈধ বালির বৈধ কারবার রমরমা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে
সুমন পাত্র পশ্চিম মেদিনীপুর:- রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার শিলাবতী নদী হোক কিংবা সুবর্ণরেখা, কংসাবতী। বালি চুরি হচ্ছে নিত্যদিন। বালি চুরির জন্য জঙ্গলের চোরা পথে বানিয়ে রাখা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা এড়িয়ে মূল রাস্তা ছেড়ে কিভাবে জঙ্গলের চোরা পথে বালি পাচার হচ্ছে তা অনেকেই হয়তো জানে না। কিংবা জানলেও সাহস হয় না প্রবল পরাক্রমশালী বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে গিয়ে সঠিক তথ্য তুলে প্রতিবেদন লিখতে। আর পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ জেনেও অজ্ঞাত।
যেমন এই চিত্রটাই ধরুন এটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের কড়সা গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনের দৃশ্য এটি। ওভারলোড বালি গাড়ি এনে এখানে কিছুটা আগে কিছুটা বালি নামিয়ে নেওয়া হয়। তারপর উপর থেকে জল ঢেলে দেওয়া হয় যাতে দেখে বুঝতে না পারা যায় যে গাড়িতে অতিরিক্ত বালি ছিল। বালি ভিজে যাওয়ার পর সবকিছু স্বাভাবিক আগের মত। ছবিটি দেখলেই বুঝতে পারবেন বালি থেকে কিভাবে জল ঝরছে। এবার অতিরিক্ত নামিয়ে রাখা বালি জমিয়ে জমিয়ে আরেকটি গাড়ি ভর্তি করে সেই বালি বিক্রি করা হয়। ধরে রাখুন ২০ শতাংশের কাছাকাছি বালি উদ্বৃত্ত হিসেবে নামানো হয়। অর্থাৎ পাঁচ গাড়ি বালি সরকারের থেকে কিনে এক গাড়ি ফ্রি। যার কর জমা পড়ে না সরকারের কাছে।
হ্যাঁ ঠিক পড়লেন সরকারি কর ফাঁকি দেওয়ার ফোকর খুঁজে নেন ব্যবসায়ীরা।
সেই সাথে CO একদিনের কাটিয়ে নেন বালি ব্যবসায়ীরা অর্থাৎ ক্যারিং অর্ডার তারপর একদিন সারাদিনে ৩-৪ বার গাড়ি নিয়ে সে বালি তোলা হয় একটা CO তে ৩-৪ গাড়ি বালি উঠে যায় বলে স্থানীয় বালি খাদান সূত্রে খবর। আপনি ভাবছেন প্রশাসন কিছু করে না কেন উত্তর তো একটাই সবাই সবকিছু জানে। আপনি আদালতে যান আদালত পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাইলে পুলিশ বলবে হ্যাঁ জানি তো ওখানে বালি উঠছে কিন্তু তার তো ক্যারিং অর্ডার আছে সরকারের ঘরে ট্যাক্সও জমা পড়ে তাহলে কিভাবে চুরি হচ্ছে। আর চুরিটা আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না। কারণ একটা গাড়ি বালি তুলে নিয়ে আসার পর সেই বালি ভাগ করে ক্রেতা বিক্রেতাকে ঠকিয়ে মুনাফা অর্জন করছে এবং যার কর সরকারের ঘরে জমা পড়ছেন না এটা প্রমাণ কার্যত মুশকিল। কারণ এই তস্কৃত কৃতকার্যের দ্বারা অনেকের রাতের রঙিন জলের ব্যবস্থা হয়।
তাই বালি নিয়ে সরকার যতই কড়া হোক বালি মাফিয়া ও ব্যবসায়ীরা কোন না কোন ফাঁকফোকর গলে বৈধ প্রশাসনের সাথে অবৈধ চুক্তিতে এই জাল থেকে বেরিয়ে যাবে। আমাদেরও জানা নেই কবে বন্ধ হবে এই চিত্রটা।
