ভাসল সেতু, প্রাণের ঝুঁকিতে স্কুলে পড়ুয়ারা
ভাসল সেতু, প্রাণের ঝুঁকিতে স্কুলে পড়ুয়ারা
সাগরদিঘিতে বর্ষার জলে তলিয়ে অস্থায়ী সেতু, কার্যত বিচ্ছিন্ন ৫-৬টি গ্রামের যোগাযোগ
রাজেশ শেখ ,জঙ্গিপুর :বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতেই বিপাকে পড়েছেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি ব্লকের বোখরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। খালের উপর নির্মিত অস্থায়ী ও দীর্ঘদিনের জীর্ণ সেতুটি জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা, যাদের অনেককেই প্রতিদিন এই সেতু পেরিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দুহাল দুর্গা মন্দির থেকে ধামুয়া এমএসকে স্কুল পর্যন্ত এই সংযোগপথই এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা। কিন্তু বর্ষার জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেতুটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। ফলে ছোট ছোট পড়ুয়াদের নিরাপদে পার করাতে এগিয়ে আসছেন এলাকার যুবকেরা। কখনও কাঁধে সাইকেল তুলে, কখনও শিশুদের হাত ধরে তারা সেতু পার করিয়ে দিচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে এই দৃশ্যই যেন যথেষ্ট।
যারা ওই পথ ব্যবহার করতে পারছে না, তাদের অনেককেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ঘুরপথে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় যেমন বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি ব্যস্ত সড়কে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও, সেই রাস্তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির কোনও স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। তাঁদের মতে, সংযোগকারী সেতু নিরাপদ না হলে নতুন রাস্তার প্রকৃত সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। জল বাড়লেই ৫ থেকে ৬টি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভগ্নদশার সেতুটি প্রবল স্রোতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে ধুমারপাহাড় ও রতনপুর ঘুরে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার রাস্তা নির্মাণের কাজ চললেও সংযোগকারী সেতুর এই বেহাল অবস্থাকে ঘিরে প্রশাসন ও জেলা পরিষদের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব একমাত্র একটি মজবুত ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
