পদ্মার গ্রাসে ভিটেমাটি! রাধাকৃষ্ণপুরে তীব্র নদীভাঙন, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা; ঘটনাস্থলে মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান
পদ্মার গ্রাসে ভিটেমাটি! রাধাকৃষ্ণপুরে তীব্র নদীভাঙন, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা; ঘটনাস্থলে মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান
রাজেশ শেখ, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর:
পদ্মার ভাঙন যেন আবারও দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে রঘুনাথগঞ্জের রাধাকৃষ্ণপুরে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে নতুন করে শুরু হওয়া নদীভাঙনে একের পর এক চাষের জমি ও বসতভিটে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ভাঙনের সঙ্গে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। বহু পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগামীকাল তারা কোথায় দাঁড়াবে।
শুক্রবার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ভাঙন কবলিত এলাকায় পৌঁছান রাজ্যের মুখ্য সচেতক এবং জঙ্গিপুরের বিধায়ক আখরুজ্জামান। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ শোনেন তিনি। পাশাপাশি ভাঙন রোধে চলমান কাজও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় বর্তমান কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, শুধু মাটি ভরা বস্তা ফেলে এত বড় নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান। একই সঙ্গে দ্রুত ও সঠিকভাবে কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তলব করার নির্দেশ দেন।
আখরুজ্জামান জানান, রাধাকৃষ্ণপুরে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য প্রায় ১৭ কোটিরও বেশি টাকার একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। এই বিলম্ব নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে কাজ শুরু করার দাবি তোলেন। তাঁর মতে, পদ্মার মতো নদীর ভাঙন মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নাও হতে পারে; দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অন্যদিকে, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার কৃষক ও বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বর্ষাকালে নদীর জলস্তর যখন সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকে, তখন তড়িঘড়ি করে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করলে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁদের দাবি, বছরের উপযুক্ত সময়ে পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে সেই অসহায় বাস্তবতা। তিনি বলেন, "ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। ইতিমধ্যেই কয়েক বিঘা জমি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে? এখন যে কাজ হচ্ছে, তাতে ভাঙন থামবে বলে আমাদের বিশ্বাস নেই।"
রাধাকৃষ্ণপুরের মানুষের দাবি এখন আর সাময়িক প্রতিকার নয়। তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—পদ্মার ভাঙন রুখতে দ্রুত একটি স্থায়ী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। তা না হলে আগামী দিনে আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলে আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
